সুইটি চন্দ্র, অযোধ্যা :
শুধু মাদক কারবারিদের গ্রেফতার নয়, এ বার তাঁদের সম্পত্তিতেও কোপ! নেশার কারবারে লাগাম পরাতে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি মাঠে ফুটবল, পড়ুয়াদের মধ্যে সচেতনতার বার্তা। মাদকমুক্ত পুরুলিয়া গড়তে এ বার ত্রিমুখী কৌশলে নামছে জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার বাঘমুন্ডিতে মাদক সংক্রান্ত আইনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে পুলিশ। জেলা পুলিশের দাবি, পুরুলিয়ায় এই প্রথম এমন কঠোর পদক্ষেপ। অন্য দিকে, মাদকের ছায়া থেকে অযোধ্যা পাহাড়ের তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে পুজোর পরেই সেখানে চালু হচ্ছে ফুটবল অ্যাকাডেমি।
বৃহস্পতিবার বাঘমুন্ডি থানার কুঁচি গ্রামের দু’টি জায়গায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের। এর পরেই এলাকায় রুট মার্চ। মাদক কারবারিদের কাছে স্পষ্ট বার্তা, এ বার শুধু গ্রেফতারি নয়, বেআইনি কারবারের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তির বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে। একই দিনে বাঘমুন্ডির বুড়দা হাইস্কুলে দুপুর ১২টায় পড়ুয়াদের নিয়ে হবে মাদকবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচি। সেখানে উপস্থিত থাকবেন পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ।
তবে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের লড়াই শুধু আইনের গণ্ডিতে আটকে রাখতে চাইছেন না পুলিশকর্তারা। অযোধ্যা পাহাড়ে তরুণ প্রজন্মকে নেশা থেকে দূরে রাখতে এ বার হাতিয়ার সেই বাঙালির চিরকালীন আবেগ— ফুটবল।
দীর্ঘ বাম আমল থেকে তৃণমূল জমানা, অযোধ্যা পাহাড়ের তরুণদের একাংশকে অতি বাম রাজনীতির প্রভাব থেকে দূরে রাখার চেষ্টা নিয়ে বারে বারে খেলাধুলাকে কাজে লাগিয়েছে পুলিশ। এ বার সেই অভিজ্ঞতাকেই মাদকবিরোধী লড়াইয়ে কাজে লাগাতে চাইছেন আধিকারিকরা। বুধবার অযোধ্যা হিলটপে মাদকমুক্ত অযোধ্যা কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে এক দিনের ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই পুলিশ সুপার ঘোষণা করেন, পুজোর পর অযোধ্যা হিলটপে চালু হবে ফুটবল অ্যাকাডেমি।
পুলিশ সুপার জানান, অ্যাকাডেমির সমস্ত আর্থিক দায়িত্ব নেবে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। খেলোয়াড়দের বুট-সহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের খরচও বহন করা হবে। আপাতত বেলগুমা পুলিশ লাইনে কর্মরত ফুটবলে অত্যন্ত দক্ষ কয়েক জন পুলিশ কর্মী প্রশিক্ষণ দেবেন। পরে রাজ্য স্তরে খেলা বা জাতীয় স্তরে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন খেলোয়াড়দেরও প্রশিক্ষণের কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।
পাহাড়ের তরুণদের বিকল্প জীবিকার পথ দেখাতেও উদ্যোগী পুলিশ। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে থাকা অযোধ্যায় স্থানীয় যুবকদের গাইড হিসাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। লক্ষ্য, এক দিকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো, অন্য দিকে পর্যটনকে ঘিরে আয়ের সুযোগ তৈরি করা। পুলিশের আশা, কাজ ও খেলার পরিসর বাড়লে নেশার টান থেকে তরুণদের সরিয়ে আনা সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমাজসেবী শঙ্কর মাহাতো শরীর সুস্থ রাখতে নেশা থেকে দূরে থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। ছিলেন জয়পুরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ মাহাতোও।
এ দিনের ফুটবল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় অযোধ্যা হিলটপ ফুটবল ক্লাব। ফাইনালে তারা ২-০ গোলে হারায় উসুলডুঙরি ফুটবল ক্লাবকে। প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন সামন্ত বেসরা।
অযোধ্যা পাহাড়ে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে তাই পুলিশের লক্ষ্য শুধু নেশার কারবার বন্দ করা নয়। আইনের কড়াকড়ি, মাঠে ফুটবলের অনুশীলন এবং তরুণদের রোজগারের সুযোগ— এই তিনের মেলবন্ধনেই বঙ্গসুন্দরী অযোধ্যা পাহাড়কে নেশামুক্ত করার স্বপ্ন দেখছে জেলা পুলিশ।