নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
সরকারি অনুমোদনে তৈরি হয়েছিল আজন্মের স্বপ্ন, অথচ আজ নিজের হাতেই সেই স্বপ্নের ঘর ভাঙতে হচ্ছে এক অসহায় পরিবারকে। ঘটনা পুরুলিয়া পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাটিং পাড়ায়। রেলের জমিতে কীভাবে সরকারি প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি তৈরির ছাড়পত্র দেওয়া হলো, তাতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
২০১৯-২০ অর্থবর্ষে কাটিং পাড়ার বাসিন্দা রাজীয়া খাতুনের নামে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার একটি বাড়ি অনুমোদিত হয়। সরকারি নিয়ম মেনেই ধাপে ধাপে টাকা পেয়ে বাড়িটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন তিনি। কিন্তু বিপত্তি ঘটে সম্প্রতি পুরুলিয়া রেল স্টেশনের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের কাজ শুরু হওয়ায়। রেল কর্তৃপক্ষ যখন নিজেদের সীমানা চিহ্নিত করতে আসে, তখন দেখা যায় রাজীয়া খাতুনের বাড়িটি সম্পূর্ণ তৈরি হয়েছে রেলের অধিগৃহীত জমিতে। এর পরেই গত শনিবার রেলের তরফে বাড়িটি খালি ও ভেঙে ফেলার চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়। আইনের খাঁড়ায় পড়ে নিরুপায় হয়ে নিজেই নিজের বসতভিটে ভাঙার কাজ শুরু করেছেন বাড়ির মালিক।
বাড়ির মালিক তৈয়ব খান বলেন,
"আমরা গরিব মানুষ, আইনের অত মারপ্যাঁচ বুঝি না। পুরসভা থেকে যখন ঘর পাশ হলো, আমরা ভেবেছিলাম সব ঠিক আছে। ঘরের টাকাও পেয়েছিলাম। এখন রেল এসে বলছে এটা নাকি ওদের জমি। নোটিশ পাওয়ার পর নিজেদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিজেদের হাতেই ভাঙতে হচ্ছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে কেন এই প্রশাসনিক ভুলের খেসারত দিতে হবে? এখন আমরা কোথায় যাব?"
বিজেপি শহর মন্ডল ৫ সম্পাদক
সুশীল কুইরী বলেন, "একটা নজিরবিহীন দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা। রেলের জমি দখল করে আবাস যোজনার বাড়ি তৈরির প্ল্যান পুরসভা পাশ করল কীভাবে? তৎকালীন পুরসভা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী। এর পেছনে কাটমানি ও দুর্নীতির বড় যোগসূত্র রয়েছে। সাধারণ মানুষকে অন্ধকারে রেখে যারা এই বেআইনি কাজ পাইয়ে দিল, সেই দোষী আধিকারিক ও নেতাদের অবিলম্বে শাস্তি হওয়া উচিত।"
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছে বিজেপি শিবির। যেখানে সরকারি ঘর পাওয়ার আগে জায়গার মালিকানা ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার নিয়ম রয়েছে, সেখানে রেলের জমিতে কীভাবে এই নির্মাণ সম্ভব হলো, তা নিয়ে পুরুলিয়া পুরসভা ও তৎকালীন প্রশাসনের আধিকারিকদের দিকেই আঙুল উঠছে।