নিজস্ব প্রতিনিধি, বান্দোয়ান:
খাঁকি উর্দি নয়। পরনে সাদা ধুতি আর স্যান্ডো গেঞ্জি। সামনে সদ্য বলি দিয়ে আসা সাড়ে তিন ফুটের তরবারি। সেটিকে প্রণাম করে লাল গামছা জড়িয়ে দিলেন বান্দোয়ান থানার ওসি মৃন্ময় ভক্ত। মহাষ্টমীর সন্ধিপুজোর পর এই রীতিই যেন মনে করিয়ে দিল, শক্তির সঙ্গে সংযমও জরুরি। বান্দোয়ানের পুরনো দুর্গাপুজো কমিটির পুজো এ বার ৯০ বছরে পা দিল। থিমের জৌলুস কিংবা আলোর বাহার নয়, সাবেকি আচার-অনুষ্ঠান আর ভক্তির আবহই এই পুজোর বৈশিষ্ট্য। সন্ধিপুজোয় পশুবলির বদলে বৈষ্ণব রীতি মেনে দেওয়া হয় আখ বলি। আর সেই বলির পর খাঁড়াটি নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। অস্ত্রের গায়ে নতুন গামছা জড়িয়ে দেওয়াই দীর্ঘদিনের রীতি। কয়েক বছর ধরে বান্দোয়ানের নব দুর্গাপুজো কমিটিতেও এই প্রথা চলে আসছে।
লোকবিশ্বাস, খোলা অস্ত্র হিংস্রতার প্রতীক। তাই তাকে গামছায় ঢেকে রাখার রীতি। আর সেই কাজ করেন থানার আধিকারিক, যাঁর দায়িত্ব আইনের শাসনে সমাজে হিংসা নিয়ন্ত্রণ করা। ধর্মীয় আচারের এই মুহূর্তে যেন মিলে যায় বিশ্বাস আর বাস্তবের বার্তা, শক্তি থাক, কিন্তু তার ব্যবহার হোক সংযত। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই রীতিতে তাই পুজোর ভক্তির পাশাপাশি ধরা পড়ে শান্তি ও সম্প্রীতির সুর।