নিজস্ব প্রতিনিধি, বরাবাজার:
জীবনানন্দ দাশ-এর “শিকার” কবিতার পুনরাবৃত্তি বরাবাজারে। নিশ্চিন্তপুর গ্রামে হরিণ হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা এলাকায়। হরিণ শিকারের ঘটনায় এক সময় আইনি জটে পড়েছিলেন চলচ্চিত্রাভিনেতা সলমান খান ও সইফ আলি খান। অথচ বরাবাজারের এক প্রত্যন্ত গ্রামে প্রকাশ্যেই হরিণ মেরে কবজি ডুবিয়ে মাংস-ভাত খেলেন গ্রামবাসীদের একাংশ। পরে সেই গ্রাম থেকেই উদ্ধার হল হরিণের মাথা ও পায়ের গোড়ালি।
ঘটনাটি বরাবাজার থানার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের। কংসাবতী দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএফও পূরবী মাহাতো জানান, “মৃত বন্যপ্রাণীর কিছু দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে। সেগুলির ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ঝাড়খণ্ড সীমান্ত সংলগ্ন বরাবাজারের মেট্যালা গ্রামে আচমকা একটি চিতল হরিণকে দেখতে পান গ্রামবাসীরা। বন দফতরে খবর দেওয়া হলেও ততক্ষণে হরিণটি উধাও। পরে জানা যায়, কয়েকটি কুকুরের তাড়া খেয়ে ভয়ে সেটি পাশের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে ঢুকে পড়ে।
বন দফতরের অনুমান, গ্রামের কয়েকজন মিলে হরিণটিকে পাকড়াও করে হত্যা করে। তারপর চলে পেটপুরে মাংস ভাত । মিলেছে প্রমাণও। বনকর্মীরা নিশ্চিন্তপুর গ্রামে তল্লাশি চালিয়ে একটি জায়গা থেকে উদ্ধার করেন হরিণের মাথা ও কয়েকটি গোড়ালি।
চিতল হরিণের এমন নির্মম পরিণতিতে প্রশ্ন উঠছে সচেতনতা ও আইন প্রয়োগ নিয়ে। বন দফতরের অনুমান, ঝাড়খণ্ড থেকে কোনোভাবে হরিণটি এ এলাকায় ঢুকে পড়েছিল।