ব্লক শহর

পুরুলিয়ায় শুরু জনকল্যাণ শিবির, মানুষের পাশে প্রশাসন; ভাতা ইস্যুতে বিতর্ক

তিন দিনে জেলায় মোট ১৫১টি শিবির আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম দিনেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ৫৫টি শিবির বসে। এই শিবিরগুলির মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মিলিয়ে মোট ৫৫টি প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুরুলিয়ায় শুরু জনকল্যাণ শিবির, মানুষের পাশে প্রশাসন; ভাতা ইস্যুতে বিতর্ক

 


সুইটি চন্দ্র , পুরুলিয়া ও রঘুনাথপুর :

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সোমবার পুরুলিয়া জেলাজুড়ে সাড়ম্বরে শুরু হলো জনকল্যাণ শিবির। তিন দিনে জেলায় মোট ১৫১টি শিবির আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম দিনেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ৫৫টি শিবির বসে। এই শিবিরগুলির মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মিলিয়ে মোট ৫৫টি প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পুরুলিয়া শহরের ইনডোর স্টেডিয়ামে শিবিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক সুধীর কোন্থম এবং পুরুলিয়া বন বিভাগের তিন ডিএফও। পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিতে শিবির থেকে সাধারণ মানুষের হাতে চারাগাছও তুলে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, শিবিরের কাজকর্ম সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে দিনভর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখেন রাজ্যের মন্ত্রী নদীয়ারচাঁদ বাউরি। তিনি রঘুনাথপুর-২ ব্লক, রঘুনাথপুর পুরসভা এবং পুরুলিয়া পুরসভার একাধিক শিবির পরিদর্শন করেন। শিবিরে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে সরকারি প্রকল্প পেতে তাঁদের কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, তাও জানতে চান। মন্ত্রীর এই সরাসরি জনসংযোগে উপভোক্তাদের একাংশ সন্তোষ প্রকাশ করেন।

শিবিরে উপস্থিত থেকে জেলাশাসক সুধীর কোন্থম আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, সকলেই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না, কারণ এর নির্দিষ্ট সরকারি বিধি রয়েছে। তবে জনকল্যাণ শিবিরে আয়ুষ্মান ভারতের কাউন্টারে আধার কার্ড দেখিয়ে সহজেই যাচাই করা যাবে কেউ এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য কি না। যোগ্য ব্যক্তিদের পরবর্তীকালে অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা কর্মীরা বাড়িতে গিয়ে রেজিস্ট্রেশনের কাজ সম্পন্ন করে দেবেন বলেও তিনি জানান।

এদিকে শিবিরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, অতীতে বার্ধক্য ভাতা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, এবার এই প্রকল্পের সুবিধা মূলত তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত উপভোক্তাদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে এবং অতীতের দুর্নীতির কারণেই নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে।

বিধায়কের এই মন্তব্যের প্রতিফলন দেখা যায় শিবিরে আসা একাংশ সাধারণ মানুষের মধ্যেও। এক প্রবীণ ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন, বার্ধক্য ভাতার আশায় শিবিরে এলেও তিনি জানতে পেরেছেন যে এবার সেই সুযোগ নাও মিলতে পারে। ফলে খালি হাতেই ফিরে যেতে হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।

এদিকে প্রশাসনিক এই কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনাও তৈরি হয়েছে। পুরুলিয়া পুরসভার তৃণমূলের প্রাক্তন পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালির শিবিরে উপস্থিতি নিয়ে জেলায় চর্চা শুরু হয়েছে। কয়েকদিন আগে তিনি এই শিবির প্রসঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছিলেন। সোমবার ইনডোর স্টেডিয়ামের সরকারি শিবিরে তাঁর উপস্থিতির পর সেই জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে। নবেন্দু মাহালি বলেন, "আমি প্রাক্তন পুরপ্রধান। আমার পদ এখনও বিচারাধীন। যে কোন সরকারি পরিষেবা আমার শহরবাসী নাগরিকরা পাচ্ছেন কি না তা দেখা আমার সাংবিধানিক কর্তব্য। "