নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
ভারতীয় বিমান বাহিনী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দিনভর নানাবিধ বর্ণাঢ্য কর্মসূচি ও সুশৃঙ্খল প্যারেডের আয়োজন করা হয়েছে পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলে। জাতীয় পতাকাকে সেলাম জানিয়ে ক্যাডেটদের নিখুঁত প্যারেডের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তবে এদিনের উদযাপনে মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে বিমান বাহিনীর বীরত্বের পাশাপাশি এক ভারতীয় কমার্শিয়াল পাইলটের অদম্য সাহসিকতার গল্প।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্কুলের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন রজনীশ কুমার তুলে ধরেন সম্প্রতি আন্তর্জাতিক আকাশে ঘটে যাওয়া এক রোমাঞ্চকর ও বীরত্বপূর্ণ ঘটনার কথা। গত ৩০ই সেপ্টেম্বর, দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর একটি বিমানে তৈরি হয়েছিল চরম সংকটের মুহূর্ত। বিমানটির ককপিটে ছিলেন ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ভারতীয় ক্যাপ্টেন, মুম্বাইয়ের বাসিন্দা স্মিত মাচ্চার। তিনি একসময় স্পাইসজেটেও কর্মরত ছিলেন।
প্লেনে হঠাৎ তাঁর ওপর নেমে আসা ভয়াবহ হামলা ও আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির মোকাবিলা করে নিজের জীবন বাজি রেখে প্লেনের সবার প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন এই ভারতীয় পাইলট। অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন রজনীশ কুমার ক্যাডেটদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ক্যাপ্টেন স্মিতের কথোপকথনের অংশটি স্মরণ করিয়ে দেন। হাসপাতালের বিছানা থেকে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চার বলেছিলেন— “উড়োজাহাজটি নিচের দিকে নেমে আসছিল, আর এটাই ছিল আমার কাছে অবশিষ্ট থাকা শেষ চেষ্টা। দরজাটি সেখানেই ছিল, শুধু কাজটি করে ফেলা দরকার ছিল। একের পর এক আঘাত সত্ত্বেও, আমি ককপিটের দরজা খুলে দিই। যাত্রী এবং ক্রু সদস্যরা দ্রুত ভেতরে ছুটে আসেন, আক্রমণকারীদের পরাভূত করেন এবং উড়োজাহাজটিকে রক্ষা করেন"।
অধ্যক্ষ ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ইউনিফর্ম পরিহিত সামরিক বাহিনীর সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও বিপদের মুখে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্চার যে উপস্থিত বুদ্ধি, কর্তব্যপরায়ণতা এবং অসম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা যেকোনো বীর সেনানির থেকে কম নয়। পদক, জয় কিংবা ব্যর্থতার ঊর্ধ্বে উঠে কীভাবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে জীবন রক্ষা করতে হয় স্মিত মাচ্ছারের এই ঘটনাটি আমাদের সেই শিক্ষা দেয়।"
এয়ার ফোর্স ডের কুচকাওয়াজ ও প্যারেডের পাশাপাশি এদিনের এই বিশেষ বক্তব্য সৈনিক স্কুলের তরুণ ক্যাডেটদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব অনুপ্রেরণা ও দেশপ্রেমের সঞ্চার করে।