নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
কলকাতার চোরবাগান পুজো মণ্ডপে মর্মান্তিক ঘটনার পর বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিতে নারাজ পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। উৎসবের মরশুমে কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবার সরাসরি দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে নেমে পড়লেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।রবিবার পুরুলিয়া শহরের বিভিন্ন বড় পুজো মণ্ডপ ও মন্দির চত্বর পরিদর্শনে যান জেলাশাসক সুধীর কোন্তম এবং জেলা পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ। প্রশাসনের এই হঠাৎ পরিদর্শনে শহরের পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যেও চাঞ্চল্য ছড়ায়।
এদিনের এই বিশেষ পরিদর্শনে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় এবং জেলা পুলিশ প্রশাসনের অন্যান্য পদস্থ কর্তারা। মূলত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, প্যান্ডেলে ঢোকা ও বেরোনোর উপযুক্ত পথ এবং পর্যাপ্ত আলো ও ভলান্টিয়ারদের উপস্থিতি —এই সমস্ত দিকগুলি খুঁটিয়ে দেখেন তাঁরা। যেসব মণ্ডপে এই নিরাপত্তার মানদণ্ড বা সুরক্ষাবিধি কিছুটা শিথিল ছিল, তাদের অবিলম্বে সমস্ত ত্রুটি সংশোধনের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতার ঘটনার শিক্ষা নিয়ে শহরের প্রতিটি পুজো কমিটিও এখন থেকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।
বিধায়ক বলেন, "চোরবাগানে যে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে গেল, তার ত্রুটিগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে।"
পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ বলেন, পুজো কমিটির বিশেষ অনুরোধে শহরের বড় পূজাগুলোতে ভিড় সামলাতে ২০ জন মহিলা কনস্টেবল মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।আলোকসজ্জা ও ভিড় সামাল দেওয়ার সুবিধার্থে এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে শহরের দুটি প্রধান পুজো এলাকায় আজ থেকেই বাইক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
শুধু পুলিশ নয়, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম ও প্রশাসনের যৌথ দল জেলাজুড়ে ছোট-বড় সমস্ত পুজো মণ্ডপ ঘুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করছে।
জেলাশাসক সুধীর কোন্তম স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, "ভিড় নিয়ন্ত্রণ, ভলেন্টিয়ারদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। উৎসবের আনন্দ যাতে বিষাদে না বদলে যায়, সেদিকেই এখন সর্বোচ্চ নজর দিচ্ছে প্রশাসন"।
এদিন রাতে পুরুলিয়ার রাস্তায় নামলেন পুলিশ সুপার! নিজেই বাইক চালিয়ে শহরের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি।