নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:
আবাস যোজনা ও জমির মিউটেশনে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঝালদায় তৃণমূলের অন্দরের ফাটল এবার প্রকাশ্য রাস্তায় ।
একদিকে আবাস যোজনার উপভোক্তাদের পচা ডিম ছুঁড়ে বিক্ষোভ অন্যদিকে খোদ পুরসভার শাসকদলের কাউন্সিলরদেরই দলত্যাগের হুঁশিয়ারি। সব মিলিয়ে চরম অস্বস্তিতে ঝালদার তৃণমূল শাসিত পুরসভা। রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্নীতির এই অভিযোগে যতটা না জনস্বার্থ জড়িয়ে, তার চেয়েও বেশি জড়িয়ে রয়েছে তৃণমূলের অন্দরের তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।
ঘটনার সূত্রপাত ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মিঠুন কান্দুর একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে। পোস্টে তিনি কাটমানি ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে উপভোক্তাদের পুরসভায় অভিযোগ জানানোর উস্কানি দেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর মিঠুন কান্দু বলেন, "কয়েকজন কাউন্সিলরের এই দুর্নীতির কারণে পুরো দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েও কোনো লাভ না হওয়ায় আমরা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
সোমবার দুপুরে ঝালদা পুরসভা চত্বর কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। একদল ক্ষুব্ধ উপভোক্তা পচা ডিম ফাটিয়ে বিক্ষোভ দেখান। শহরের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দার সংখ্যাই বেশি ছিলো এদিন।
বিক্ষুব্ধ আবাস যোজনা উপভোক্তা মনোজ প্রামাণিক ও সনকা রজক ও তপন কান্দু বলেন,আবাস প্রকল্পের ঘর পাওয়ার জন্য এবং জমির মিউটেশনের কাজ করাতে আমাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল। আমাদের মতো গরিব মানুষের টাকা এভাবে কাটমানি হিসেবে চলে যাবে কেন? আমরা পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি এবং অবিলম্বে আমাদের সেই টাকা ফেরত চাই।"
বিজেপি ঝালদা শহর মন্ডল সাধারণ সম্পাদক সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
"তৃণমূলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে দুর্নীতি, তা আজ ওদের নিজেদের কাউন্সিলরদের কথাতেই প্রমাণিত। এতদিন মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি, কিন্তু এখন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল ও সুশাসনের আবহাওয়া বদলানোর ফলে মানুষ সাহস পাচ্ছেন। আমরা এই কাটমানি চক্রের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।" বাঘমুন্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাতোও এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর ঝালদার সাধারণ মানুষের। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সামনেই পুরভোট। অন্য সমীকরণ তৈরি হতে পারে। পুরসভার শাসক দল তৃণমূলের ভেতরের এই ফাটল এবং কাটমানি বিতর্ক আগামী দিনে ফেলতে পারে ঝালদার রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব।