নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
ক্যালেন্ডারে বর্ষা এলেও আকাশে তার ছাপ এখনও ফিকে। ১৭ জুন পুরুলিয়ায় বৃষ্টিপাত হয়নি। জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৫.৩ ডিগ্রি।
গত কয়েক দিনের মতো এ দিনও সকাল থেকেই রোদ ও আর্দ্রতার যুগল দাপটে নাজেহাল হন সাধারণ মানুষ। দিনের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি ছিল চরম। দুপুরের দিকে অনুভূত তাপমাত্রা প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় অনেকটাই বেশি ছিল।
এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়াবিদদের মতে, ১২ জুন দক্ষিণবঙ্গে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করলেও তার শক্তি এখনও তেমন বৃদ্ধি পায়নি। বৃষ্টি নামানোর জন্য প্রয়োজনীয় নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্তের মতো বড় কোনও আবহাওয়া ব্যবস্থা এখনও তৈরি হয়নি। ফলে বর্ষা এসেও বৃষ্টির দেখা মিলছে না। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, ২০ জুনের পর পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। তখন বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। তবে তাতেও তাপমাত্রা বড়জোর ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কমতে পারে। অর্থাৎ আপাতত গরম ও ভ্যাপসা অস্বস্তি থেকে পুরোপুরি মুক্তির সম্ভাবনা কম।
এ বার পুরুলিয়া সহ দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার আরেকটি উদ্বেগের দিকও তুলে ধরেছেন আবহাওয়াবিদরা। তাঁদের মতে, ঝড়ের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম হলেও বজ্রপাতের আশঙ্কা বেশি। সেই কারণেই বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাত সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, এ বছর পুরুলিয়া সহ দক্ষিণবঙ্গে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
ফলে পুরুলিয়ার আকাশে এখন এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। বর্ষা এসেছে, কিন্তু বৃষ্টি নয়; বরং গরম আর গুমোট অস্বস্তিই যেন এখনও ঋতুর প্রধান পরিচয়।