সংস্কৃতি অন্যান্য ব্লক

বুদ্ধ পূর্ণিমায় সেন্দ্রা উৎসব ঘিরে জমজমাট অযোধ্যা পাহাড়

পুরুলিয়া-র অযোধ্যা পাহাড়ে সেন্দ্রা উৎসব হয়ে উঠেছে প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক চিন্তার এক অপূর্ব মেলবন্ধন।
বুদ্ধ পূর্ণিমায় সেন্দ্রা উৎসব ঘিরে জমজমাট অযোধ্যা পাহাড়

 

 

সুইটি চন্দ্র ও শুভদীপ মাহাতো,  অযোধ্যা পাহাড়:

ভেসে আসছে কিঁদরির সুর,আর তার সঙ্গেই শুরু হয়েছে ঐতিহ্যের এক অনন্য উৎসব। অযোধ্যা পাহাড়-এ বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয়ে গেলো সেন্দ্রা উৎসব। প্রকৃতির টানে এবং নিজস্ব সংস্কৃতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দূরদূরান্ত থেকে আদিবাসী মানুষজন ভিড় জমিয়েছিলেন পাহাড়ের কোলে।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ সুতান টান্ডিতে বসা প্রাচীন প্রথার আদালত ‘ল বীর-বাইসি’। খোলা আকাশের নিচে আদিবাসী সমাজের নানা সমস্যার সমাধান করেন মোড়লরা। ‘সেন্দ্রা’ শব্দের অর্থ অনুসন্ধান। এক সময় শিকার উৎসব বর্তমানে সম্পূর্ণ রক্তপাতহীনভাবে পালিত হচ্ছে।

হিউমেন কমিটির সদস্য রতনলাল হাঁসদা বলেন, “আগে এই উৎসবের সঙ্গে শিকারের একটা সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এখন আমরা বন্যপ্রাণ রক্ষার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি। তাই সবাইকে সচেতন করা হয়েছে শিকার নয়, উৎসবই হোক মূল লক্ষ্য।”
উৎসবে অংশগ্রহণকারী মানুষজন বলছেন, “আমরা প্রতি বছরই এখানে আসি। এটা শুধু উৎসব নয়, আমাদের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটা বড় মিলনমেলা। নতুন প্রজন্মও যেন এটা জানতে পারে, সেটাই চাই।”

এদিকে, পিঠে তীর-ধনুক ও ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র নিয়ে জঙ্গলে প্রবেশের রীতি থাকলেও, প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে কোথাও কোনো বন্যপ্রাণীর ক্ষতি হয়নি। প্রশাসনের বার্তা মেনেই সবাই ‘শিকার নয়, উৎসব’-এর ভাবনায় মেতে উঠেছেন।

পুরুলিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত সন্দীপ চৌধুরি‌‌ বলেন, “প্রশাসনের তরফে আমরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি—কোনোভাবেই বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করা যাবে না। আনন্দের সঙ্গে উৎসব পালন করুন, কিন্তু আইন মেনে। এবছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।”
উৎসব শেষে পাহাড়ের সবুজ প্রান্তরে বেজে ওঠে বাঁশির সুর। হাতে অস্ত্র থাকলেও তা মূলত ঐতিহ্য রক্ষা এবং আত্মরক্ষার প্রতীক হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। আধুনিকতার ছোঁয়ার মধ্যেও নিজেদের প্রাচীন রীতি-নীতিকে বাঁচিয়ে রাখার এই প্রচেষ্টা সত্যিই অনন্য।
এভাবেই পুরুলিয়া-র অযোধ্যা পাহাড়ে সেন্দ্রা উৎসব হয়ে উঠেছে প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক চিন্তার এক অপূর্ব  মেলবন্ধন।