উৎসবের আলোয়

ছুটি নেই, মানুষের পরিবারেই পুজো কাটাচ্ছেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময়

জানা গিয়েছে, জেলাজুড়ে ২০০-র বেশি পুজো কমিটি থেকে তাঁর কাছে আমন্ত্রণের চিঠি এসেছিল, তবে চরম সময়ের টানাটানির কারণে বাধ্য হয়েই তালিকা কাটছাঁট করতে হয়েছে তাঁকে।
ছুটি নেই, মানুষের পরিবারেই পুজো কাটাচ্ছেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময়


সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

উৎসবের মরসুমে সাধারণ মানুষ যখন মণ্ডপে মণ্ডপে আলোর রোশনাই আর আনন্দে মশগুল, তখন সাধারণ মানুষের জন্য নিজের 'উৎসব' উৎসর্গ করেছেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। সাংগঠনিক বৈঠক, হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বঙ্গ সফর পরিচালনা থেকে শুরু করে স্থানীয় মানুষের সমস্যার সমাধান দুর্গাপূজার চরম ব্যস্ততার মাঝেও এক মিনিটে থেমে থাকার অবসর নেই তাঁর।

রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ, একটাই চর্চা পুজোতেও বিশ্রামের নামগন্ধ নেই পুরুলিয়ার সাংসদের।  সাংসদের বক্তব্য, "আমি নিজে আলাদা করে পুজোতে পরিবারকে সময় দিতে পারি না। পুরুলিয়ার মানুষই আমার পরিবার।" পুজোতে প্রান্তিক মানুষজনের সুখ দুঃখ ভাগ করে নেন। বিশেষ করে কাশিপুরে যান। জনজাতিদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মাতেন। চরম ব্যস্ততার সিডিউলে জ্যোতির্ময়। এই কয়েকদিন আগে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন।সেখানে বিপুল জয় এনে দেওয়ার পর ডায়মন্ডহারবার লোকসভার ফলতায় বিভিন্ন  সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সামিল হন। কলকাতায় ফিরে এসে একের পর এক সাংগঠনিক বৈঠক। এরই মধ্যে দিল্লিতে ডাক। দিল্লি অমিত শাহর ডাকে বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলির জরুরি বৈঠকে। কলকাতায় ফিরেই পুজো উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে।  পরক্ষণেই ছুটছেন ঝাড়গ্রাম সাংগঠনিক জেলার বিজেপি কার্যালয়ের ভূমি পূজনে। আর সেই পর্ব মিটতেই এক ঝটকায় পৌঁছে গিয়েছেন নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্র পুরুলিয়াতে। ফিরেই একের পর এক পুজো উদ্বোধনে পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো।

দুর্গা পঞ্চমীর দিনে, বলরামপুরের বিধায়ক জলধর মাহাতোকে সাথে নিয়ে জঙ্গলমহল বলরামপুর ও পুরুলিয়া শহর মিলিয়ে এক রাতেই ১৩টি দুর্গোৎসবের উদ্বোধন করেন  তিনি। বলরামপুর ষোলোআনা, কালীতলা, হাটতলা স্যাকরা পাড়া থেকে শুরু করে পুরুলিয়া শহরের দুলমি, ফর্টি কোয়ার্টার, নডিহা ও কেতিকা সর্বজনীনের মতো বড় বড় পুজোতে তাঁর উপস্থিতি দেখা যায়।

দুর্গা ষষ্ঠীর সকাল  থেকে টানা রাত পর্যন্ত আবার শুরু হয় পুজো উদ্বোধনের পরিক্রমা। হুচুকপাড়া, সুরুলিয়া, হুটমুড়া, হুড়া, পাবড়া, কাশিপুর হয়ে রেলশহর আদ্রার ওয়্যারলেস ময়দান, চিলড্রেন পার্ক, বাঙালি সমিতি ও সাঁওতালডি মুক্তাঙ্গন সহ আরও ১২টি মণ্ডপের পুজোর সূচনা করেন সাংসদ।

সব মিলিয়ে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ২৫টি পুজো উদ্বোধনের নজির গড়েন তিনি। জানা গিয়েছে, জেলাজুড়ে ২০০-র বেশি পুজো কমিটি থেকে তাঁর কাছে আমন্ত্রণের চিঠি এসেছিল, তবে চরম সময়ের টানাটানির কারণে বাধ্য হয়েই তালিকা কাটছাঁট করতে হয়েছে তাঁকে।

উৎসবের আবহ থাকলেও জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব ভুলে যাননি তিনি। দুর্গাষষ্ঠীতে হুচুকপাড়া সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে নিজে সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে ৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন স্টিল গেটের উদ্বোধন করেন জ্যোতির্ময়।

উদ্বোধনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে এলাকা সম্পর্কিত নানান সমস্যা, বিশেষ করে পানীয় জল ও রাস্তাঘাটের সুবিধা-অসুবিধা শোনেন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত স্থানীয় নেতৃত্বকে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দিয়ে সাংসদ আমজনতাকে আশ্বস্ত করে বলেন, "আমার তহবিলের কাজে যদি কোনো গাফিলতি বা অসঙ্গতি চোখে পড়ে, সরাসরি আমাকে জানান। আমি তো কোনো ইঞ্জিনিয়ার নই যে সব নিজে থেকেই বুঝে নেব! অভিযোগ পেলেই আমি উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।"

জেলায় ২৫টি পুজো উদ্বোধনের পর্ব শেষ করে মহাসপ্তমীর সকালেই ফের কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন রাজ্য বিজেপির এই সাধারণ সম্পাদক। কারণ, বঙ্গ সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

অধিক সপ্তমীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বেলুড় মঠ দর্শন, হাওড়ার বালি দেশবন্ধু ক্লাবের পুজো ও কলকাতার একাধিক হেভিওয়েট পুজো মণ্ডপ পরিক্রমা করার কথা রয়েছে। অমিত শাহের এই সমগ্র বঙ্গ সফরের যাবতীয় সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের পুরো দায়িত্ব রয়েছে জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর কাঁধে।

দলের রাজ্য নেতৃত্বের সূত্রে খবর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর শেষ হওয়া মাত্রই আবারও পুরুলিয়ায় ফিরবেন সাংসদ, এবং উৎসবের বাকি দিনগুলোতে নিজের জেলার মানুষের সাথেই কাটাবেন, যারা তাঁর পরিবার হয়ে উঠেছে।