শিক্ষা ব্লক

প্রান্তিক আদিবাসী কৃষক পরিবার থেকে জেআরএফ, পুরুলিয়ায় ইতিহাস গড়লো কমলা বেসরা

জেলার প্রান্তিক গ্রাম থেকে উঠে এসে নজির গড়লো এক তরুণী। সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইতিহাসে প্রথমবার জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ (জেআরএফ) অর্জন করে নতুন দিগন্ত খুলে দিলো ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন ছাত্রী কমলা বেসরা।
প্রান্তিক আদিবাসী কৃষক পরিবার থেকে জেআরএফ, পুরুলিয়ায় ইতিহাস গড়লো কমলা বেসরা

শুভদীপ মাহাতো, পুরুলিয়া:

জেলার প্রান্তিক গ্রাম থেকে উঠে এসে নজির গড়লো এক তরুণী। সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইতিহাসে প্রথমবার জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ (জেআরএফ) অর্জন করে নতুন দিগন্ত খুলে দিলো ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন ছাত্রী কমলা বেসরা।

ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারের মেয়ে কমলার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, বিশ্ববিদ্যালয় তথা জেলার কাছেও তা এক বিরাট প্রাপ্তি। এর আগেই সে ইউজিসি নেট ও ডব্লিউবি সেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। এবার সরাসরি জেআরএফ, গবেষণার জগতে প্রবেশের অন্যতম বড় সোপান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক গৌতম মুখোপাধ্যায় বলেন, “২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও প্রাক্তন পড়ুয়া জেআরএফ পেল। কমলা প্রান্তিক কৃষক পরিবারের মেয়ে। তার একনিষ্ঠ অধ্যবসায় এবং শেখার জেদই তাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। এই সাফল্য সম্পূর্ণভাবে কমলার নিজের। আমরা অত্যন্ত গর্বিত।”

জেলার আদিবাসী সমাজের ক্ষেত্রেও এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রথম কোনও আদিবাসী মেয়ে জেলায় জেআরএফ উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কমলার সাফল্য নতুন প্রজন্মের কাছে প্রেরণা হয়ে উঠেছে।

তবে এমন সাফল্যের মুহূর্তেও ব্যক্তিগত দায়িত্বের কাছে আটকে রয়েছে আনন্দ। হুড়া থানার দেউলি গ্রামের বাসিন্দা কমলা বর্তমানে বাঁকুড়ায়। অসুস্থ মা লক্ষ্মীরানি বেসরার চিকিৎসার জন্য তার সঙ্গেই রয়েছে সে। বাবা মনোরঞ্জন বেসরা পেশায় কৃষক।

গ্রামের বাড়ি থেকে দেশের গবেষণার অঙ্গনে, কমলার এই যাত্রাপথ যেন এক অনমনীয় লড়াইয়ের গল্প। শিক্ষকরা বলছেন, “এরপর আর পিছনে তাকাতে হবে না।” জেলার মানুষও এখন তাকিয়ে তার আগামী পথচলার দিকে।