সাধারণ খবর

সরকারি কর্মীদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর নির্দেশ, কী এই স্মার্ট মিটার? কী-ই বা সুবিধা-অসুবিধা?

রাজ্য সরকার, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, কর্পোরেশন, সরকারি উদ্যোগ বা এমন যে কোনও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের, যাঁদের বেতন বা সাম্মানিক রাজ্যের কোষাগার থেকে দেওয়া হয়, তাঁদের বাড়িতেই আগে স্মার্ট মিটার বসানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে নির্দেশে।
সরকারি কর্মীদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর নির্দেশ, কী এই স্মার্ট মিটার? কী-ই বা সুবিধা-অসুবিধা?

 

সুজয় দত্ত, পুরুলিয়া :

রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বাড়িতে স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার বসানোর প্রক্রিয়া জোরদার করতে উদ্যোগী হল নবান্ন। গত ১০ জুন মুখ্যসচিবের জারি করা এক নির্দেশিকায় সমস্ত দফতরের প্রধান, জেলা শাসক, পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষকর্তা এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থাকে তাঁদের কর্মীদের এই বিষয়ে সহযোগিতা করার কথা বলা হয়েছে।

নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রের রিভ্যাম্পড ডিস্ট্রিবিউশন সেক্টর স্কিম (RDSS)-এর আওতায় বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থাকে আধুনিক করা এবং বণ্টন সংস্থাগুলির আর্থিক ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। রাজ্য সরকার, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, কর্পোরেশন, সরকারি উদ্যোগ বা এমন যে কোনও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের, যাঁদের বেতন বা সাম্মানিক রাজ্যের কোষাগার থেকে দেওয়া হয়, তাঁদের বাড়িতেই আগে স্মার্ট মিটার বসানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে নির্দেশে।

প্রথম পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা ৫৫৪টি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের মধ্যে ১০৩টি এলাকায় স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু করেছে। পরে ধাপে ধাপে অন্যান্য এলাকাতেও এই প্রকল্প চালু হবে।

নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়েছে, নতুন স্মার্ট মিটারগুলি প্রথমে পোস্ট-পেইড পদ্ধতিতেই চলবে। অর্থাৎ গ্রাহকের বিল আগের মতোই আসবে। তবে চাইলে পরে প্রি-পেইড ব্যবস্থায় যাওয়ার সুযোগ থাকবে।

স্মার্ট মিটার কী?

সাধারণ বিদ্যুৎ মিটারের মতো মাসে এক বার গিয়ে রিডিং নেওয়ার প্রয়োজন হয় না স্মার্ট মিটারে। এই মিটার ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার কাছে পাঠিয়ে দেয়। ফলে রিয়েল টাইমে বা প্রায় রিয়েল টাইমে বিদ্যুৎ খরচের হিসাব রাখা সম্ভব হয়।

স্মার্ট মিটারের সুবিধা

বাড়িতে গিয়ে আলাদা করে মিটার রিডিং নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
ভুল বিল বা অনুমানভিত্তিক বিল তৈরির সম্ভাবনা কমে।
গ্রাহক নিজের বিদ্যুৎ খরচ সহজে নজরে রাখতে পারেন।
বিদ্যুৎ চুরি বা বণ্টনজনিত ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।
ভবিষ্যতে প্রি-পেইড ব্যবস্থা চালু করলে যত টাকা রিচার্জ, তত বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়।

স্মার্ট মিটার নিয়ে যে আশঙ্কাগুলি রয়েছে

প্রি-পেইড ব্যবস্থায় চলে গেলে রিচার্জ শেষ হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, স্মার্ট মিটারে বিদ্যুতের খরচ বেশি দেখাতে পারে। যদিও বিদ্যুৎ সংস্থাগুলি তা অস্বীকার করে।
প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।
ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত নন এমন গ্রাহকদের প্রথম দিকে কিছু সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।

রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় অবশ্য স্পষ্ট করা হয়েছে, বর্তমানে স্মার্ট মিটার পোস্ট-পেইড হিসেবেই চালু থাকবে এবং বিদ্যমান বিলিং ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে গ্রাহক চাইলে পরে প্রি-পেইড পদ্ধতি বেছে নিতে পারবেন। ফলে আপাতত সরকারি কর্মীদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতেই প্রশাসনিক স্তরে জোর দেওয়া হচ্ছে।