নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ফিরে আসতে চাইলে কর্মীদের জন্য কংগ্রেসের দরজা খোলা। তবে দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কিত নেতাদের দলে নেওয়া হবে না। শুক্রবার পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস ভবনে রাহুল গান্ধীর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমনই বার্তা দিলেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো। রাহুল গান্ধীর জন্মদিন পালন কর্মসূচির পাশাপাশি এদিন জেলা কংগ্রেস ভবনে একটি যোগদান পর্বেরও আয়োজন করা হয়। কংগ্রেসের দাবি, মানবাজার-১ নম্বর ব্লকের রামনগর ও বারমেশিয়া এলাকা থেকে একাধিক তৃণমূল কর্মী এদিন জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করেন।
পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নেপাল মাহাতো বলেন,"তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মই হয়েছিল কংগ্রেস ভেঙে। আজ দীর্ঘ ১৫ বছর তৃণমূল করার পর বহু কর্মী ভুল বুঝতে পেরে মূল স্রোতে ফিরছেন। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই, দরজা খোলাই আছে।"
তবে এই 'ঘর ওয়াপসি'র বার্তার সমান্তরালেই একটি লক্ষ্মণরেখা টেনে দিয়েছেন নেপালবাবু। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের শাসকদলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করে তিনি সাফ জানান, "দলবদল মানেই কলঙ্ক মোচনের জায়গা নয়। সাধারণ কর্মীদের জন্য দরজা ১০০ বার খোলা, কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্ত বা বিতর্কিত কোনো ভাবমূর্তির নেতাকে দলে নিয়ে কংগ্রেস নিজের পিঠ কলঙ্কিত করবে না।"
শাসকদলের ব্লক ও অঞ্চল স্তরের হেভিওয়েট নেতাদের এই দলবদল মানবাজার বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিতকে কার্যত নাড়িয়ে দিয়েছে। দল ছাড়ার পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূলের বিদায়ী কনভেনর অজিত কুমার দাস স্পষ্ট জানান,"তৃণমূল কংগ্রেসের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখন দুর্নীতি। এই দুর্নীতির প্রতিবাদেই এবং সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে না পারার দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতেই আমরা আজ জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতোর নেতৃত্বে জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিলাম।"
মানবাজার ১ নম্বর ব্লকের কংগ্রেস সভাপতি বলেন, "আজকে রামনগর-বারমেশিয়া এবং জিতুজুড়ি অঞ্চলের প্রতিটি বুথ থেকে বেছে বেছে তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা এসে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। আপাতত ১০টি বুথ থেকে প্রধান ১১ জন পদাধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে হাত মেলালেন। এটা তো কেবল শুরু, লাইনে আরও অনেকে আছেন। আজ থেকেই এই দুই অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক অস্তিত্বের সমাপ্তি ঘটল। আগামী দিনে আমরা সরাসরি অঞ্চলে গিয়ে বড়সড় কর্মসূচি করব।"
পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস কমিটি
সাধারণ সম্পাদক,সলিল কুমার মাজি বলেন, "রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে আজ দেশজুড়ে সংবিধান রক্ষা এবং শোষিত মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার যে লড়াই চলছে, পুরুলিয়ার মানুষ তাতে সাড়া দিচ্ছেন। মানবসেবাই কংগ্রেসের একমাত্র অঙ্গীকার। আজকের এই ঐতিহাসিক যোগদানের ফলে পুরুলিয়া জেলায় কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি আগামী দিনে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং আমরা শাসকদলের অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করব।"
রাহুল গান্ধীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই তৃণমূলের উদ্দেশে এই রাজনৈতিক বার্তা জেলাজুড়ে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসের দাবি, আগামী দিনে আরও অনেকে তৃণমূল ছেড়ে তাদের দলে যোগ দেবেন।