সাধারণ খবর ব্লক

লাভের লোভে পোস্ত চাষ, সচেতন করতে কোটশিলার পাহাড়ি গ্রামে পুলিশের খাটিয়া বৈঠক

সেই লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার কোটশিলা থানার বেগুনকোদর গ্রাম পঞ্চায়েতের দুর্গম পাহাড়ি আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম মামুডিতে আয়োজিত হল খাটিয়া বৈঠক ও জনসচেতনতা কর্মসূচি। পুরুলিয়ার নতুন পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রত্যন্ত এলাকায় জনসংযোগ বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে এ দিনের কর্মসূচি।
লাভের লোভে পোস্ত চাষ, সচেতন করতে কোটশিলার পাহাড়ি গ্রামে পুলিশের খাটিয়া বৈঠক

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোটশিলা:

কম খাটুনি, লাভ অনেক। আর সেই লোভেই ইদানীং পুরুলিয়ার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে অবৈধ পোস্ত চাষ। কয়েক মাস আগেই জেলার একাধিক এলাকায় পোস্ত চাষের পিছনে ভিন্‌রাজ্যের একটি চক্রের যোগসাজশের সূত্র পেয়েছিল পুলিশ। কিন্তু লাভের আশায় এই চাষে নামা কৃষকদের অনেকেই জানেন না, ধরা পড়লে অপেক্ষা করছে কঠোর আইনি শাস্তি। তাই শুধুমাত্র অভিযানে নয়, সচেতনতার পথেও জোর দিচ্ছে পুলিশ।
সেই লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার কোটশিলা থানার বেগুনকোদর গ্রাম পঞ্চায়েতের দুর্গম পাহাড়ি আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম মামুডিতে আয়োজিত হল খাটিয়া বৈঠক ও জনসচেতনতা কর্মসূচি। পুরুলিয়ার নতুন পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রত্যন্ত এলাকায় জনসংযোগ বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে এ দিনের কর্মসূচি।


বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) অজিঙ্ক্য বিদ্যাগর, ঝালদা মহকুমার এসডিপিও গৌরব ঘোষ, কোটশিলা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক-সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীরা। পাহাড় ঘেরা গ্রামের পুরুষ, মহিলা ও যুবক-যুবতী সহ প্রায় ১৫০ জন বাসিন্দা বৈঠকে অংশ নেন। তাঁদের হাতে স্থানীয় থানা এবং জেলা কন্ট্রোল রুমের জরুরি যোগাযোগ নম্বর-সম্বলিত স্লিপ তুলে দেওয়া হয়। গ্রামবাসীদের কথায় পুলিশের সামনে পানীয় জলের সংকট, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, আইসিডিএস কর্মীর অভাব, কাছেপিঠে বিদ্যালয় না থাকা, স্বাস্থ্য পরিষেবার সীমিত সুযোগ— সব মিলিয়ে নিত্যদিনের দুর্ভোগের ছবি উঠে আসে বৈঠকে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, অনেক সময় শিশুদের স্কুলে যেতে বাসিন্দাদের সরকারি পরিষেবা পেতে দীর্ঘ দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করতে হয়।
পুলিশ আধিকারিকেরা গ্রামবাসীদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে যে সব সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব, সেগুলি সংশ্লিষ্ট দফতরের নজরে আনার আশ্বাসও দেওয়া হয়। তবে শুধু সমস্যা শোনাই নয়, সচেতনতার বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয় বৈঠক থেকে। সাইবার প্রতারণা, বাল্যবিবাহ, মাদকবিরোধী প্রচার এবং বিশেষ করে অবৈধ পোস্ত চাষের আইনি পরিণতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন পুলিশ আধিকারিকেরা। গ্রামবাসীদের যেকোনও অসামাজিক বা বেআইনি কার্যকলাপের খবর দ্রুত পুলিশকে জানানোর আবেদনও করা হয়।পুলিশের দাবি, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলাই এই ধরনের খাটিয়া বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। দুর্গম অবস্থান সত্ত্বেও মামুডির বাসিন্দাদের উৎসাহী অংশগ্রহণ সেই উদ্যোগকে আরও অর্থবহ করে তুললো।