ক্রাইম শহর

বালতির সঙ্গে এবার ত্রিপল, কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে উদ্ধার, চাঞ্চল্য পুরুলিয়ায়

সোমবার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পর মঙ্গলবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ ও পুরকর্মীরা হানা দেন পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বিষ্ণু সহিসের বাড়িতে। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পের সারি সারি বালতি, ডাস্টবিন এবং ত্রিপল।
বালতির সঙ্গে এবার ত্রিপল, কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে উদ্ধার, চাঞ্চল্য পুরুলিয়ায়

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

মমতার বাড়িতে যাচ্ছে সিআইডি, অন্যদিকে তৃণমূল কাউন্সিলরদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দিচ্ছে পুলিশ। সোমবার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পর  মঙ্গলবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ ও পুরকর্মীরা হানা দেন পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বিষ্ণু সহিসের বাড়িতে। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে মিশন নির্মল বাংলা  প্রকল্পের সারি সারি বালতি, ডাস্টবিন এবং ত্রিপল। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে  রেষারেষি। গত ডিসেম্বরে তৃণমূলের বোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসানোর পর ৬ মাস কেটে গিয়েছে। আর রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই এখন পুরুলিয়ার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের বাড়িতে একের পর এক পুলিশি অভিযান ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।

এই অভিযানকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং জনপরিষেবায় বাধা সৃষ্টির চেষ্টা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। অন্যদিকে, বিজেপি একে দেখছে সরকারি বরাদ্দের ওপর তৃণমূলের দখলদারির অবসান হিসেবে।

প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার বিষ্ণু সহিস  বলেন, "এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। সাধারণ মানুষকে বিলি করার জন্যই এই জিনিসপত্রগুলো ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হিসেবে আমার বাড়িতে মজুত রাখা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই সিংহভাগ জিনিস সাধারণ মানুষের হাতে তুলেও দেওয়া হয়েছে। যেটুকু বেঁচে গিয়েছিল, তা পড়েছিল। জনকল্যাণের কাজকে এভাবে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা নিন্দাজনক।"

১ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপির ওয়ার্ড সভাপতি দীপক বাউরি জানান, "কোনো চক্রান্ত নয়, এটাই তৃণমূলের আসল চরিত্র। সাধারণ মানুষের টাকা লুটে এরা নিজেদের ঘর ভরায়। শুধু ১ নম্বর বা ১১ নম্বর ওয়ার্ড নয়, তৃণমূলের সমস্ত প্রাক্তন কাউন্সিলরের বাড়িতে তল্লাশি চালালে বিপুল পরিমাণ সরকারি সামগ্রী উদ্ধার হবে। এখন পুলিশের ভয়ে অনেক কাউন্সিলর তড়িঘড়ি বাড়িতে লুকিয়ে রাখা জিনিসপত্র রাতারাতি বিলি করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করছেন।"

বিজেপি প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, "মিশন নির্মল বাংলার বালতি বা ত্রিপল— এগুলো কোনো দলের সম্পত্তি নয়, সরকারি করদাতার টাকায় কেনা সাধারণ মানুষের অধিকার। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন এই সরকারি পরিষেবাগুলোকে দলীয় কার্যালয় বা নিজেদের বাড়ি থেকে বণ্টন করে বোঝাতে চাইত এগুলো যেন তাদের ব্যক্তিগত দান। এই একনায়কতন্ত্র আর চলবে না। ক্ষমতার অপব্যবহার করে যারা সরকারি মাল ঘরে আটকে রেখেছিল, তাদের প্রত্যেকের হিসাব নেওয়া হবে।"

বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই পুরপরিষেবা ও সরকারি প্রকল্পের দুর্নীতির তদন্তে কোমর বেঁধে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন। সোমবার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পর মঙ্গলবার ১ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে, পুরুলিয়ার পুরদুর্নীতির শিকড় কতটা গভীরে।