সাধারণ খবর শহর

২৩টি স্করপিও, ২৩টি বুলেট থানায় থানায়, এবার বিপদে এক ফোনেই সাহায্যে ঝাঁপাবে পুরুলিয়া পুলিশ, নম্বর ১১২

কোনও বিপদের সময়ে ১১২ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাওয়া যাবে। এসএমএস এবং ‘১১২ ইন্ডিয়া’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও জরুরি সহায়তা চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই পরিষেবা চালু থাকবে ২৪ ঘণ্টাই।
২৩টি স্করপিও, ২৩টি বুলেট থানায় থানায়, এবার বিপদে এক ফোনেই  সাহায্যে ঝাঁপাবে পুরুলিয়া পুলিশ, নম্বর ১১২

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :

জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাতে এ বার আরও সক্রিয় হচ্ছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে জেলায় ৪৬টি বিশেষ পুলিশ গাড়ি নামানো হল। এর মধ্যে রয়েছে ২৩টি স্করপিও এবং ২৩টি রয়্যাল এনফিল্ড মোটরবাইক। রবিবার ওই যানগুলির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ ।

মহালয়ার দিন রাজ্য জুড়ে ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স সাপোর্ট সিস্টেম -১১২ পরিষেবার সূচনা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তার পরেই পুরুলিয়া জেলায় এই উদ্যোগ। জেলা পুলিশের বিভিন্ন থানায় ওই যানগুলি মোতায়েন করা হবে। পুলিশের দাবি, এর ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজ এবং বিপদে পড়া মানুষকে সাহায্য করার কাজ আরও সহজ হবে।
পুলিশি সহায়তা, পথ দুর্ঘটনা, চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতি, অগ্নিকাণ্ড কিংবা অন্য কোনও বিপদের সময়ে ১১২ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাওয়া যাবে। এসএমএস এবং ‘১১২ ইন্ডিয়া’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও জরুরি সহায়তা চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই পরিষেবা চালু থাকবে ২৪ ঘণ্টাই।

নতুন গাড়িগুলিতে থাকছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থাও। জিপিএসের মাধ্যমে যানগুলির অবস্থান চিহ্নিত করা এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দ্রুত পুলিশকর্মীদের ঘটনাস্থলে পাঠানোর ব্যবস্থা থাকবে। স্করপিও গাড়িগুলিতে রাখা হয়েছে জনসাধারণকে সতর্ক করার জন্য মাইক, বিশেষ সতর্কবাতি, ড্যাশ ক্যামেরা ও বডি ক্যামেরা। পাশাপাশি থাকছে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, জরুরি আলো, ভাঁজ করা স্ট্রেচার, দড়ি, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য কোণ, প্রতিফলক জ্যাকেট, রেনকোট এবং সুরক্ষার অন্যান্য সরঞ্জাম। দুর্ঘটনা বা অপরাধের ঘটনাস্থলে প্রয়োজন হতে পারে, এমন কিছু সামগ্রীও রাখা হয়েছে গাড়িগুলিতে।

অন্য দিকে, ২৩টি রয়্যাল এনফিল্ড মোটরবাইকে থাকছে সাইরেন, এলইডি সতর্কবাতি, মাইক, বডি ক্যামেরা, প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স, জরুরি আলো ও প্রতিফলক জ্যাকেট। পুলিশের মতে, যানজটপূর্ণ রাস্তা কিংবা দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছতে এই মোটরবাইকগুলি বিশেষ কার্যকর হবে।
জেলা পুলিশের আশা, নতুন যানগুলি চালু হলে জরুরি টহলদারি, দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া, অপরাধ প্রতিরোধ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং বিপন্ন মানুষকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।