সাধারণ খবর ক্রাইম স্বাস্থ্য ব্লক

চিকিৎসার গাফিলতিতে মৃত মহিলার পরিবারকে ৫ লাখ মানবিক মুখ্যমন্ত্রীর, কন্যা সন্তানের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন পুরুলিয়ার এসপি

মঙ্গলবার রাতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকার একটি চেক মৃতের পরিবারের হাতে তুলে দেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম এবং পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ। উপস্থিত ছিলেন রঘুনাথপুরের বিধায়ক মামনি বাউরি। প্রশাসন সরাসরি মৃতের বাড়িতে পৌঁছে বার্তা দেয় রাজ্য সরকার এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে রয়েছে।
চিকিৎসার গাফিলতিতে  মৃত মহিলার পরিবারকে  ৫ লাখ মানবিক মুখ্যমন্ত্রীর, কন্যা সন্তানের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন পুরুলিয়ার এসপি

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, নিতুড়িয়া:

 ভুল চিকিৎসায় এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল পুরুলিয়ার নিতুড়িয়া এলাকায়। ঘটনাটি ঘিরে পথ অবরোধ ও বিক্ষোভের পর প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অভিযুক্ত বেসরকারি হাসপাতালটিকে ইতিমধ্যে সিল করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়েই মানবিক মুখ সামনে এনে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন। দেওয়া হলো ৫ লাখের আর্থিক সহায়তা এবং চিকিৎসার গাফিলতিতে যুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তির আশ্বাস।

নিতুড়িয়ার মদনডি গ্রামের বাসিন্দা রীতা বাউরি সম্প্রতি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার পরেই পরিবার ও গ্রামবাসীরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে শামিল হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও ঘটনার তদন্তে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করে প্রশাসন। স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করার পাশাপাশি অভিযুক্ত হাসপাতালটিকে সিল করে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার রাতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকার একটি চেক মৃতের পরিবারের হাতে তুলে দেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম এবং পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ। উপস্থিত ছিলেন রঘুনাথপুরের বিধায়ক মামনি বাউরি। প্রশাসন সরাসরি মৃতের বাড়িতে পৌঁছে বার্তা দেয় রাজ্য সরকার এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে রয়েছে।
পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ বলেন, "এখানে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা হলো। কালকে যার মৃত্যু হয়েছে, তার মেয়ে  তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে।  আমি ব্যক্তিগতভাবে তার পুরো স্কুল ও কলেজের পরে যত পড়াশোনা করতে চায় আমি আমার ব্যক্তিগত সামর্থ্য থেকে দায়িত্ব নিলাম। আর এরপরে আমি লোকাল থানার মাধ্যমে আমার পার্সোনাল নম্বর ওই পরিবারকে দিয়ে যাব। আমরা যোগাযোগে থাকব। পুরো প্রশাসন যোগাযোগে আছে।"

তদন্তের অগ্রগতি ও সরকারি সহায়তার বিষয়ে পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম জানান, "ওই মহিলার মৃত্যু হয়েছে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে।
তার তদন্ত চলছে। স্বাস্থ্য দফতর থেকে সিএমওএইচ 
তদন্ত করছেন। ইতিমধ্যে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে, সিএম রিলিফ ফান্ড থেকে ৫ লাখ টাকার অনুমোদন উনি দিয়েছেন। বাঁকুড়াতে মিটিং হয়েছিল, সেখানে উনি পার্সোনালি আর্থিক সহায়তার অনুমোদনের চিঠি বিধায়কের  হাত দিয়ে দেওয়ার জন্য উনি বলেছেন। সেটা আমরা আজকে করেছি। রাজ্য সরকার যে ওই পরিবারের পাশে আছে সেই বার্তা  জনপ্রতিনিধি দ্বারা পৌঁছেছি।"এলাকার এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে রঘুনাথপুরের বিধায়ক মামনি বাউরি বলেন, "আমাদের এলাকার একজন গৃহবধূর প্রাণ চলে গেলো। এই ঘটনা খুব দুঃখজনক, নিন্দনীয়, ক্ষমার অযোগ্য।  কোনো মৃত্যু আমরা ফিরিয়ে দিতে পারি না। আমরা শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুবিচার পাইয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার  প্রশাসনিক বৈঠকের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী  শুভেন্দু অধিকারী  উনি এই পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং সেখান থেকে মৃত পরিবারের প্রতি সমবেদনা উনি জানিয়েছেন।"


মুখ্যমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছে শোকার্ত পরিবার। তবে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি স্ত্রীর অকালমৃত্যুর পিছনে যারা দায়ী, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃতের স্বামী সমীর বাউরী।
প্রশাসনের ভূমিকা ও সহায়তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে  মৃতার  স্বামী সমীর বাউরি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। উনি আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
আমার বাচ্চার পাশে দাঁড়িয়েছেন। ওনার মতন মানুষ হয় না।  এই অবস্থায় আমার খেয়াল রেখেছেন। আমার মতন দরিদ্র মানুষের।" প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত  রিপোর্ট আসার পরই দোষী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।