নিজস্ব প্রতিনিধি, অযোধ্যা পাহাড়:
একটা সময় ছিল যখন বুদ্ধ পূর্ণিমা তিথিতে বন্যপ্রাণের রক্তে ভিজে যেত অযোধ্যা পাহাড়। সেই কোন প্রাচীন কাল থেকেই বুদ্ধ পূর্ণিমা তিথিতে জঙ্গলমহলের মানুষ মেতে উঠতো বীর দিশম সেন্দ্রা পরবে। অরণ্য নির্ভর পুরুষ বীরত্ব প্রদর্শন করতে প্রবেশ করত জঙ্গলে। শিকার করে আনত একের পর এক বন্যপ্রাণ৷
অবস্থাটা এখন পালটে গেছে পুরোটাই। উৎসব রয়েছে পুরোদস্তুর। হয় না শিকার। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার করা মামলার প্রেক্ষিতে মহামান্য আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উৎসবে শিকার সম্পূর্ণ বন্ধ। বন দফতরের লাগাতার সচেতনতার প্রচার এই কয়েক বছর ধরে সেন্দ্রাকে করে তুলেছে রক্তপাতহীন।সেন্দ্রা মানে অনুসন্ধান। নিজেকে খুঁজতেই যেন হাজার হাজার আদিবাসী পুরুষের পদস্পর্শ পেয়ে সেজে ওঠে রূপসী বাংলার অযোধ্যা।
আর এবারও তাই। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটছে অযোধ্যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষের ভিড় জমেছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। শুক্রবারের উৎসবকে সামনে রেখে অযোধ্যামুখী প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাতেই বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। পাহাড়ে ওঠার পথে প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে চলছে তল্লাশি। পাশাপাশি মাইকিং করে ও সরাসরি প্রচারের মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে আগত দর্শনার্থীদের। বনদপ্তরের স্পষ্ট বার্তা, জঙ্গলে আগুন লাগানো যাবে না, শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জেলা শাসক রেখেছেন আবেদন।
বনদপ্তরের এই উদ্যোগে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের মতে, ভিড় সামাল দেওয়া ও দুর্ঘটনা এড়াতে এই কড়াকড়ি জরুরি ছিল।
তবে উৎসবের মেজাজে খানিকটা ভাটা ফেলছে আবহাওয়া। কয়েক দিন ধরেই বিকেলের দিকে আকাশ ঢেকে যাচ্ছে মেঘে। বুদ্ধ পূর্ণিমার রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখা যাবে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়। প্রকৃতির এই অনিশ্চয়তা নিয়েই এখন অপেক্ষা, কেমন কাটবে এ বছরের সেন্দ্রা উৎসব?