ক্রাইম ব্লক

অনুমতির আগেই নির্মাণ! বরাবাজারে ইটভাটায় শতাধিক ফুটের ইটের কাঠামো ভেঙে জখম দুই শ্রমিক

সরকারি অনুমতি মেলার আগেই ইটভাটার জন্য তৈরি হচ্ছিল বিশাল চিমনি। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একশো ফুটেরও বেশি উঁচু সেই ইটের কাঠামো। ঘটনায় গুরুতর জখম দুই নির্মাণ শ্রমিক।
অনুমতির আগেই নির্মাণ! বরাবাজারে ইটভাটায় শতাধিক ফুটের ইটের কাঠামো ভেঙে জখম দুই শ্রমিক

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরাবাজার:

সরকারি অনুমতি মেলার আগেই ইটভাটার জন্য তৈরি হচ্ছিল বিশাল চিমনি। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একশো ফুটেরও বেশি উঁচু সেই ইটের কাঠামো। ঘটনায় গুরুতর জখম দুই নির্মাণ শ্রমিক। সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার বরাবাজার থানার হুড়ুমদা গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জখম দুই শ্রমিকের নাম সাবির মণ্ডল ও রফিকুল মণ্ডল। দু’জনেরই বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার হরিহরপুর থানার হরিহরপুর গ্রামে। তাঁদের উদ্ধার করে পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, হুড়ুমদার এক বাসিন্দা গত বছর পাত চিমনি বসিয়ে ইটভাটার ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এ বছর পাকাপাকি ভাবে ব্যবসা চালানোর জন্য ইট দিয়ে স্থায়ী চিমনি তৈরির কাজ চলছিল। ইতিমধ্যেই কাঠামোটির উচ্চতা একশো ফুট ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সেই অবস্থাতেই আচমকা ভেঙে পড়ে গোটা চিমনিটি। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান বরাবাজার থানার আইসি, বিডিও, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিক। আসেন মানবাজার এসডিপিও। প্রাথমিক ভাবে খবর মেলে, দুর্ঘটনার সময় সেখানে ২০ থেকে ২২ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ফলে ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও শ্রমিক চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পুরুলিয়া থেকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় দমকলের একটি ইঞ্জিন।
এর পর জেসিবি দিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চলে তল্লাশি। প্রশাসনিক আধিকারিকদের দাবি, দীর্ঘক্ষণ উদ্ধারকাজ চালানোর পর নিশ্চিত হওয়া যায়, আর কেউ চাপা পড়ে নেই। তবে কী কারণে চিমনিটি ভেঙে পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে ভাটা মালিককে এলাকায় দেখা যায়নি। সরকারি অনুমতি পাওয়ার আগেই কী ভাবে এত বড় চিমনি নির্মাণের কাজ চলছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।