নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
গেরুয়ার সঙ্গে মিশলো হলুদ আবির, জয় শ্রীরামের সঙ্গে এলো জয় গরাম ধ্বনি, জঙ্গলমহলের এলাকায় এলাকায় নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। কুড়মি সম্প্রদায়ের আবেগ ও দাবিকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে ভোটের ফলাফলেও। আর তারই জেরে তুমূল উদ্দীপনা।
পুরুলিয়ার বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে উৎসবের আমেজ ছিল চোখে পড়ার মতো। মানুষজন রঙ খেলায় মেতে ওঠেন। নাচে-গানে ভরে ওঠে চারদিক। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আবেগ একসঙ্গে মিশে গিয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করে।
আদিবাসী কুড়মি সমাজের সমর্থকদের কথায়, "মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতোর চালে কুপোকাত তৃণমূল। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুরের কুড়মি অধ্যুষিত ২০ টি বিধানসভা আসনগুলির ফল দেখলেই তা বোঝা যায়। কুড়মি ভোটকে হাতিয়ার করে চার জেলায় ২০টি আসনের মধ্যে ১৯ টিতে জিতেছে বিজেপি। উল্লেখযোগ্য ভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য উপদেষ্টা রাজেশ মাহাতো ও জয়পুরের আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতার ছেলে বিশ্বজিৎ মাহাতোও জয়ী হয়েছেন। এদিন আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো বলেন, "কুড়মি জনজাতির উপর অত্যাচারের, অবহেলার জবাব দিল জঙ্গলমহল।"
পুরুলিয়ায় ৯ টি বিধানসভায় কুড়মি জনজাতির ভোট রয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। আর সেই ৩০ শতাংশ ভোট পুরোপুরি পড়েছে বিজেপিতে। তার প্রধান কারিগর আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো। ভোটের আগে সমাজের কাছে বার্তা দিয়েছিলেন'নো ভোট টু টিএমসি'। সেই বার্তায় তৃণমূলের কাল হলো, তা ভোটের ফলাফলেই পরিষ্কার।
যদিও ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও তিনি এই ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু সেইবারে সেভাবে কার্যকর হয়নি। আদিবাসী তালিকাভুক্তের বিষয়ে রাজ্য সরকার কমেন্ট- জাস্টিফিকেশন না পাঠানোতেই কুড়মি জনজাতির মানুষজন ক্ষুব্ধ হন। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ওই দাবি পূরণে রেল অবরোধের ডাক দিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘাত বাধে। কারণ ওই অবরোধকে হাইকোর্ট বেআইনি বলায় পুলিশ পদক্ষেপ নেয়। আর তাতেই কুড়মি জনজাতির মানুষজন অত্যাচারের অভিযোগ তোলেন। যদিও অজিত প্রসাদ মাহাতোর অভিযোগের তীর ছিল তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দোপাধ্যায়ের দিকে। অভিযোগ ,তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপারকে সামনে রেখে তৃণমূল সরকার কুড়মি অধ্যূষিত গ্রামগুলির বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অত্যাচার করেছিল। কাউকে বাড়ি থেকে বার হতে দেওয়া হয়নি। আর তারপরেই
গত ৮ অক্টোবর পুরুলিয়ায়
পুলিশ সন্ত্রাস বিরোধী জনসভাতে মূল মানতা আবার ডাক দিয়েছিলেন 'নো ভোট টু টিএমসি'। সেই ডাকেই বিজেপির পালে হাওয়ায় ওঠে।