নিজস্ব প্রতিনিধি ,কাশিপুর:
ভোট পরবর্তী হিংসায় কাশিপুর এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় কোন দল কত আসন পেতে পারে, এই সামান্য আলোচনার আসর আচমকাই সংঘর্ষের রূপ নেয়। আর এই রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরে বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হন।
গত শুক্রবার দুপুরে পুরুলিয়ার কাশিপুর থানার মনিপুর গ্রামের একটি মন্দিরে বসে চলছিল আলোচনা। অভিযোগ, তৃণমূলের পক্ষে কথা বলায় এলাকার বিজেপি কর্মী জয়দেব ও মহাদেব মণ্ডল ভারী কাঠ দিয়ে হামলা চালায়। বেধড়ক মারধরে গুরুতর জখম হন তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি চিত্তরঞ্জন মণ্ডল সহ চার তৃণমূল কর্মী। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিত্তরঞ্জনবাবু ও বাবলু মণ্ডলকে দুর্গাপুরের হাসপাতালে এবং মাথায় গুরুতর চোট থাকায় দুর্গাদাস মন্ডলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে অপর জখম তৃণমূল কর্মী ঈশ্বর মন্ডলের আঘাত ততটা গুরুতর ছিলো না বলে জানা গেছে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় দুই মহিলা সহ মোট ছ'জনের নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। নাবিক মণ্ডল নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কাশিপুরের তৃণমূল প্রার্থী সৌমেন বেলথরিয়া বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, "আমাদের অঞ্চল সভাপতি চিত্তরঞ্জন মণ্ডল খুবই ভালো মানুষ। এলাকার সকল মানুষের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক। ওই এলাকা আমাদের শক্ত ঘাঁটি। নির্বাচনে হারের আশঙ্কা থেকেই বিজেপি সন্ত্রাস শুরু করেছে।"
অন্যদিকে, এই হামলার দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করে কাশিপুরের বিজেপি প্রার্থী কমলাকান্ত হাঁসদা বলেন, "এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোন যোগ নেই। তৃণমূলের অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন। এটি পারিবারিক ঝামেলার ঘটনা। "
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক তরজা। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।