শুভদীপ মাহাত, পাড়া:
গণতন্ত্রের মহোৎসবে এ যেন এক অদ্ভুত নীরবতা। সকালের মিঠে রোদ গড়িয়ে দুপুর পার হয়ে বিকেল হতে চলল, কিন্তু বুথের ছবিটা পাল্টালো না। বুথ আছে, ভোটকর্মীরা প্রস্তুত, ভোটাররাও গ্রামেই আছেন, কিন্তু নেই শুধু সেই ইভিএমে বোতাম টেপার চেনা লম্বা লাইন। পুরুলিয়ার পাড়া বিধানসভার রঘুনাথপুর ২ নম্বর ব্লকের তুলসীবাড়ি গ্রামে কেবল একটি সেতুর দাবিতে দলমত নির্বিশেষে একজোট হয়ে এমনই নজিরবিহীন ভোট বয়কট করলেন গ্রামবাসীরা। শাসক হোক বা বিরোধী, কোনো দলের প্রার্থীই তাঁদের এই জমাট অভিমান ভাঙাতে পারেননি।
এই নিস্তব্ধ বুথের নেপথ্যে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক টানাপোড়েন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পাড়া কেন্দ্রের খোদ তৃণমূল প্রার্থী মানিক বাউরি জানিয়েছেন, এই বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন! অন্যদিকে, এই কেন্দ্রেরই বিজেপি প্রার্থী নদীয়ার চাঁদ বাউরীর দাবি, তিনি গতকাল রাতে এবং আজ সকালে গ্রামবাসীদের বোঝাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু গ্রামবাসীরা তাঁর সঙ্গে ঠিকমতো কথাই বলেননি। পুরো ঘটনার পেছনে তৃণমূলের প্রচ্ছন্ন উস্কানি রয়েছে বলেই সন্দেহ তাঁর।
এদিকে, তুলসীবাড়ির এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন রঘুনাথপুরের বিজেপি প্রার্থী মামনি বাউরি। তাঁর প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই ক্ষোভের কারণ খতিয়ে দেখতে ওই গ্রামে পৌঁছেছেন। ‘পুরুলিয়া মিরর’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি প্রশাসন ও শাসকদল তৃণমূলের 'ভাঁওতাবাজি'-কে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর কথায়, "রাস্তাঘাট নিয়ে প্রশাসন ও শাসকদল কেবল মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছে। মানুষ স্বেচ্ছায় নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার ছাড়তে চান না, কিন্তু দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও উদাসীনতার কারণেই তাঁরা আজ এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন"। আর সেই বঞ্চনার প্রতিবাদেই সেখানকার মানুষও আজ ভোট বয়কটের পথে হেঁটেছেন।
সব মিলিয়ে, অনুন্নয়নের ক্ষোভ আর ভোট বয়কটের কাঁটায় পুরুলিয়ার রাজনীতি আজ রীতিমতো সরগরম।