রাজনীতি ব্লক ভোটের খবর

গাড়ি গিফট করে টিকিট পেয়েছেন বলরামপুরের বিজেপি প্রার্থী? এ কী অভিযোগ তুললেন অভিষেক!

বিজেপি প্রার্থী জলধর মাহাতোকে আক্রমণ করে অভিষেকের মন্তব্য, “শুনেছি গাড়ি উপহার দিয়ে টিকিট পেয়েছেন তিনি। এমন ব্যক্তির হাতে এলাকার দায়িত্ব দেওয়া যায়?”
গাড়ি গিফট করে টিকিট পেয়েছেন বলরামপুরের বিজেপি প্রার্থী? এ কী অভিযোগ তুললেন অভিষেক!

 

সুইটি চন্দ্র, বলরামপুর;

ফের ট্রেন বিলম্ব ইস্যুতে বিজেপিকে নিশানা করে সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।  সোমবার বলরামপুর কলেজ ময়দানে জনসভা থেকে তাঁর কটাক্ষ, “যে সাংসদ ট্রেন সময়মতো চালানোর ব্যবস্থা করতে পারে না, সে উন্নয়ন করবে কীভাবে?”

সভামঞ্চ থেকে একের পর এক ট্রেনের দেরির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, হাওড়া-চক্রধরপুর, পুরুলিয়া এক্সপ্রেস কিংবা রূপসী বাংলা, কোনও ট্রেনই সময় মেনে চলছে না। তাঁর দাবি, ১৮ এপ্রিল হাওড়া-চক্রধরপুর ট্রেন পাঁচ ঘণ্টার বেশি দেরিতে পৌঁছায়, পুরুলিয়া এক্সপ্রেসও প্রায়শই দু’ থেকে তিন ঘণ্টা পিছিয়ে পড়ে।

বিজেপিকে ‘শূন্য গ্যারান্টির দল’ আখ্যা দিয়ে অভিষেকের প্রশ্ন, ২০১৯ সাল থেকে বলরামপুরে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার থাকার পরও মানুষ কী পেলেন? “পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকেও উন্নয়ন কোথায়?”— তোপ দাগেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ।

বলরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী শান্তিরাম মাহাতোর সমর্থনে তিনি বলেন, “তিনি মাটির মানুষ, দীর্ঘদিন মানুষের পাশে থেকেছেন। সম্প্রতি স্ত্রী প্রয়াত হয়েছে, তাও জনগণকে ছেড়ে যাননি।” পাল্টা কটাক্ষে বিজেপি প্রার্থী জলধর মাহাতোকে আক্রমণ করে তাঁর মন্তব্য, “শুনেছি গাড়ি উপহার দিয়ে টিকিট পেয়েছেন তিনি। এমন ব্যক্তির হাতে এলাকার দায়িত্ব দেওয়া যায়?” একইসঙ্গে অভিযোগ তোলেন, সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো-র ‘আপ্ত সহায়ক’কেই প্রার্থী হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ধর্মের রাজনীতির অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, “বিজেপি ‘জয় শ্রী রাম’ বলে বিভাজনের রাজনীতি করে। আমি বলব, এখানে শান্তি আছে, রাম আছে, শান্তিরাম মাহাতো আছে।” কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, “গরম, ঝড়, বৃষ্টি— যাই হোক, লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিন। এমন ভোট দিন, যেন জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোরা ৪ মে পদ্মফুলের বদলে চোখে সর্ষে ফুল দেখেন।”

এ দিন কেন্দ্রীয় নীতিকেও নিশানা করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার মানুষ কী খাবে, কী খাবে না— তাও ঠিক করতে চায়। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তপশিলি জাতির মায়েরা।” কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, দুমাস আগে এই বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যসচিব। কেন কুড়মালিকে এখনও অষ্টম তফসিল ভুক্ত করা হলো না।

চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তাঁর ঘোষণা, “১২ বছরে মোদি সরকার বলরামপুর-পুরুলিয়ার জন্য কী করেছে, আর আমরা কী করেছি— রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুন। যদি ল্যাজে গোবরে না হয়, তবে আমার নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়।” একইসঙ্গে প্রস্তাব দেন, এক দিকে তিনি ও শান্তিরাম মাহাতো, অন্য দিকে অমিত শাহ ও জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো— খোলা ময়দানে হিসাব হোক।

রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলির উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বাংলার বাড়ি, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার”, “কৃষক বন্ধু” ও “যুব সাথী”— মিলিয়ে লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তাঁর মন্তব্য, “কেন্দ্র টাকা বন্ধ করলেও উন্নয়ন থামেনি।” মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে গ্যাস, পেট্রোল, দুধ-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির অভিযোগও তোলেন তিনি।

ভোটের অঙ্ক কষে দলীয় কর্মীদের বার্তা, “২০২৪-এ আমরা এগিয়ে। এবার ৫০ হাজার ভোটে জিততে হবে।” পাশাপাশি আশ্বাস, শান্তিরাম মাহাতো জিতলে লাক্ষা শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে এবং ২০২৬ থেকে ২০৩১-এর মধ্যে ওই শিল্পে যুক্ত মানুষের জীবনযাত্রায় বদল আসবে।

সভা শেষে তাঁর বার্তা, “এটা শুধু নির্বাচন নয়, এটা প্রতিবাদ। তৃণমূল জিতলে মানুষের অধিকার রক্ষা হবে।”