নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
"বিজেপি ডাকাত নয়, ওরা পকেটমার! সামনে থেকে নয়, এরা পেছন থেকে আসে। কখন যে আপনার পকেট মেরে রেখে দেবে, আপনি টেরও পাবেন না। একেবারে বাড়ি গিয়ে বুঝতে পারবেন পকেট কাটা গেছে!" রান্নার গ্যাস থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া দামের প্রসঙ্গ টেনে শনিবার এভাবেই গেরুয়া শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন।
শনিবার জঙ্গলমহল পুরুলিয়ার কাশিপুর, বান্দোয়ান, মানবাজার এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে পরপর নির্বাচনী জনসভা করেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী । আর সেখান থেকেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ বলেন, "বাংলায় বিজেপি নির্বাচন লড়ছে না, বিজেপির হয়ে বাংলায় লড়ছে স্বয়ং নির্বাচন কমিশন! আর গোটা দেশ তা দাঁড়িয়ে দেখছে"। বিপুল কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, লাঠি, বন্দুক বা ছড়ি দিয়ে যতই ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হোক না কেন, বাংলার ভোট রোখা যাবে না।
ধামসা-মাদল আর তির-ধনুক হাতে আসা হাজার হাজার আদিবাসী মানুষজনের সামনে দাঁড়িয়ে এদিন রাজনৈতিক সাহিত্যের ছোঁয়া রেখে হেমন্ত বাবু বলেন, "যে দেশের রাজা ব্যাপারী, সে দেশের প্রজা ভিখারি!" তাঁর অভিযোগ, মুখে রাম আর বগলে ছুরি নিয়ে দেশের পুঁজিপতি বন্ধুদের পকেট ভরাতে চাইছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। ইডি-সিবিআইয়ের মতো এজেন্সির ভয় দেখিয়ে এবং ধর্মের নামে বিষ ছড়িয়ে দেশ ভাঙার রাজনীতি করছে তারা। বিপন্ন হচ্ছে আদিবাসীদের জল-জঙ্গল-জমি। জিনিসপত্রের যা দাম বাড়ছে, তাতে আগামী দিনে গরিবের থালায় একটা দানাও জুটবে না।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনা আর এজেন্সির জোড়া ফলার মুখে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে একাই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, তার অকুণ্ঠ প্রশংসা করেন হেমন্ত সোরেন। তিনি জানান, প্রতিবেশী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি আজ 'দিদি'র পাশে দাঁড়াতেই ছুটে এসেছেন।
তবে এদিনের এই হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক প্রচারের মাঝে একটি বিষয় উপস্থিত জনতার নজর এড়ায়নি। কাশিপুরে তৃণমূল প্রার্থী সৌমেন বেলথরিয়ার সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী বারবার তাঁকে 'সৌমেন'-এর বদলে 'সোমেশ' বলে সম্বোধন করে ফেলেন। শুধু সভামঞ্চেই নয়, সভা শেষে নিজের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া (ফেসবুক) অ্যাকাউন্টেও কাশিপুরের তৃণমূল প্রার্থীর নাম 'সোমেশ বেলথরিয়া' লিখেই পোস্ট করেন তিনি।
পুরুলিয়ার তিন বিধানসভার প্রচার মঞ্চ থেকেই তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেন, আদিবাসী কল্যাণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বাংলায় যে প্রকল্পগুলি চালিয়েছে, তা আজ সমগ্র দেশবাসীর জন্য মডেল। আগামী দিনে নিজের রাজ্য ঝাড়খণ্ডেও তিনি এই জনমুখী প্রকল্পগুলি রূপায়ণ করবেন।