সুজয় দত্ত, পুরুলিয়া :
বিজেপির ভোট প্রচারে আসছেন একাধিক মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলের হয়ে আসবেন না কেউ? তাই কী হয়? দিদি মমতার ডাকে বাংলার বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের হয়ে ভোট প্রচারে আসছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। পুরুলিয়াতেই রয়েছে তাঁর তিনটি জনসভা। আসতে পারেন তাঁর স্ত্রী বিধায়ক কল্পনা সরেনও। শনিবারই জেলায় তিন তিনটি সভা করার কথা দিশম গুরু শিবু সরেন তনয়ের। কাশিপুর, মানবাজার ও বান্দোয়ানে। তিনটি বিধানসভাই আদিবাসী অধ্যুষিত। সেই আদিবাসী ভোটারদের মন টানতেই কি ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী বাংলা সফরে?
উল্লেখ্য, তিনটি বিধানসভাতেই আদিবাসী ভোটার যথেষ্ট। তুলনায় বেশি আদিবাসী ভোটার রয়েছে বান্দোয়ান ও মানবাজার বিধানসভায়। এই দুই বিধানসভা তফসিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষিত।
বান্দোয়ানে তৃণমূল প্রার্থী তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি রাজীবলোচন সরেনের সমর্থনে সভা করার কথা ঝামুমো সুপ্রিমোর। মানবাজার ২ নম্বর ব্লকের আঁকরোতে এই সভা করার ছক কষেছে তৃণমূল। মানবাজার বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিদায়ী রাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু। এখানেও ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সস্ত্রীক জনসভা করার পরিকল্পনা। সভা হবে মানবাজার বিধানসভার পুঞ্চা ব্লকের লাখরার বদড়া ফুটবল ময়দানে। কাশিপুর বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী করেছে প্রাক্তন বিধায়ক স্বপন বেলথরিয়ার পুত্র তথা রাজ্য তৃণমূলের সম্পাদক সৌমেন বেলথরিয়াকে। তাঁর সমর্থনে জনসভা করবেন হেমন্ত সরেন। সভা হবে কাশিপুর ব্লকের সিমলা- ধানাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ধানাড়া ফুটবল ময়দানে।
আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে নজর রেখে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেনকে সামনে এনে নির্বাচনী ময়দানে নামছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বান্দোয়ান, মানবাজার ও কাশিপুর, এই তিন বিধানসভা এলাকায় তাঁর জনসভাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের কৌশল স্পষ্ট, ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে হাতিয়ার করে বাংলার আদিবাসী ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া। দলের নেতাদের দাবি, একসময় বিজেপি ঝাড়খণ্ডের মসনদে বসেছিল। সেখানে সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূর্ণ হয়নি। সেই অসন্তোষের ফলেই ক্ষমতায় আসে আঞ্চলিক দল ঝামুমো।
একই সঙ্গে, ঝাড়খণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপের প্রসঙ্গও তুলে ধরছে তৃণমূল। দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে কেন্দ্রের সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে, এই অভিযোগকে সামনে রেখেই আদিবাসী সমাজের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বান্দোয়ানে সভা করেছিলেন হেমন্ত সোরেন। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই ফের একবার আদিবাসী ভোটে প্রভাব ফেলতে তাঁকে ব্যবহার করতে চাইছে তৃণমূল, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
বান্দোয়ান, মানবাজার ও কাশিপুরের তৃণমূল প্রার্থীদের কথায়, “হেমন্ত সোরেনের সভা ঘিরে আমরা ভীষণ উৎসাহিত। প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।” দলীয় সূত্রে খবর, সভায় বিপুল জনসমাগমের লক্ষ্য নিয়েই চলছে সাংগঠনিক তৎপরতা।